ডিএনসিসি নির্বাচন, শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রার্থীরা, নেই উত্তেজনা…

আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণার শেষ সময়ে রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন উপ-নির্বাচনের মেয়র এবং উত্তর-দক্ষিণের ৩৬ নতুন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের নির্বাচনের প্রার্থীরা। উত্তরের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তার নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। একইভাবে নির্বাচনে প্রচারণা চালিয়েছেন উত্তর সিটিতে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী শাফিন আহমেদ। তবে এই নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসেও ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তেমন একটা উত্তাপ লক্ষ্ করা যায়নি। অনেকটা উত্তেজনাহীন ‘ম্যারমেরে’ নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলেই ধারণা ভোটার ও সাধারণ মানুষদের।

বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন। একই দিনে উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নবগঠিত ৩৬টি ওয়ার্ডে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর পদেও নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

সরেজমিনে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নতুন ওয়ার্ডগুলোয় কাউন্সিলর প্রার্থীরা কিছুটা উত্তাপ ছড়ালেও মেয়র প্রার্থী পদে তেমন উত্তেজনা দেখতে পাওয়া যায়নি। মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম ও শাফিন আহমেদের পোস্টার চোখে পড়েছে, তাদের পক্ষে মাইকিংও হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে নবগঠিত ওয়ার্ডগুলোকে ব্যাপক প্রচারণার পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যে খানিকটা উত্তেজনা-উত্তাপ থাকলেও ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদ নিয়ে তেমন উত্তেজনা দেখা যায়নি।

গত কয়েকদিনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটেছেন নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে। সেই সঙ্গে আলোচনা, মতবিনিয়ম, কর্মিসভা, লিফলেট বিতরণ, মাইকিংসহ নানা প্রচারণা চালিয়েছেন। ভোটারের কাছে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। পাড়া-মহল্লা-বাজারের পাশাপাশি বাসা-বাড়িতে গিয়েও নারী ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেছেন।

এই নির্বাচনে ভোটার ও আদাবর এলাকার অধিবাসী নাফিজ জামান বলেন, মেয়র পদ নিয়ে তো কোনো উত্তেজনাই দেখছি না। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর শক্ত প্রতিপক্ষ নেই বলেই হয়তো এমন একপেশে মনে হচ্ছে। আদাবর এলাকার অপর এক অধিবাসী জানালেন, তাদের বাসায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী ভোট চাইতে বা লিফলেট বিতরণ করতে আসেনি। তবে মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের পক্ষে তিনি মিছিল হতে দেখেছেন।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদ দলীয়ভাবে উন্মুক্ত রেখেছে দলটি। এবারের নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ ছাড়াও দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রার্থী হয়েছেন। এসব কারণে এই নির্বাচনে নির্বাচনি আমেজ বিরাজ করছে বলে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মীরা মনে করেন।

আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা জানালেন, যেহেতু কাউন্সিলর প্রার্থীরা সকলেই ক্ষমতাসীন দলের, সেক্ষেত্রে সংঘাতের আশঙ্কা থাকলেও থাকতে পারে। তবে ভোটে যেন কোনো বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি না হয় সেদিকে কড়া দৃষ্টি রয়েছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের।

জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সকাল থেকেই তার নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রচার ও গণসংযোগ চালিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি নগরের দিয়াবাড়ী, তুরাগ, আশকোনা ও কুড়িল এলাকায় গণসংযোগ চালান। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকাতেও মাইকিংয়ের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। নগরের বিভিন্ন মোড়ে আতিকুল ইসলামের পোস্টার ও বিভিন্ন ফেস্টুন লক্ষ করা গেছে। এরইমধ্যেই তিনি আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করে সুস্থ্ ঢাকা, সচল ঢাকা ও আধুনিক ঢাকা গড়াসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির মনোনীত মেয়রপ্রার্থী শাফিন আহমেদ বনানী, কড়াইল বস্তি, গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় প্রচারণায় অংশ নেন। দুপুরে জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে। আশা করি নির্বাচনের দিনও ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকবে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত নির্বাচনের প্রচারণায় কোথাও বাধাগ্রস্ত হইনি। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

এবারে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচনে মেয়র পদে ৫ প্রার্থীর মধ্যে- নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আতিকুল ইসলাম, লাঙ্গল প্রতীকে জাপার শাফিন আহমেদ, টেবিল ঘড়ি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রহিম, আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আনিসুর রহমান দেওয়ান, বাঘ প্রতীকে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির শাহীন খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা ভোটগ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন। ফলে শেষ সময় আজ (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল একইসঙ্গে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর চিকিৎধীন অবস্থায় উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হক লন্ডনে মারা যান। পরে তার পদটি শূন্য ঘোষিত হয়। গত বছরের ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন হাইকোর্ট। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি স্থগিতের আদেশ খারিজ হলে গত ২২ জানুয়ারি নতুন তফসিল ঘোষণা করে কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে। এ লক্ষ্যে ১০ ফেব্রুয়ারি প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। এদিকে ঢাকার দুই সিটিতে নতুন ১৮টি করে ৩৬টি ওয়ার্ড যুক্ত হয় ২০১৭ সালে। যার নির্বাচনও ঢাকা উত্তর সিটির সঙ্গে ২৮ ফেব্রুয়ারি হতে যাচ্ছে।

5 (100%) 2 votes