সেমিফাইনালের দরজা কালই খুলতে হবে বাংলাদেশকে….

আগামীকাল লাওসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ শুরু করবে বাংলাদেশ।

জেমি ডে শুধু মুখ ফুটে বলতে পারছেন না, ‘কিসের আবার ফিলিপাইন! মূল খেলা তো লাওসের বিপক্ষে।’

বাংলাদেশ কোচ কথাটি সরাসরি এভাবে না বললেও বারবার স্বীকার করেছেন, ‘সেমিফাইনাল খেলতে হলে প্রথম ম্যাচেই লাওসকে হারাতেই হবে।’ আগামীকাল বাংলাদেশ-লাওস ম্যাচ দিয়েই সিলেটে শুরু হবে ছয় জাতি বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ। গ্রুপের অন্য প্রতিপক্ষ বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ১১৪ তে অবস্থান করা ফিলিপাইন নামে-ভারে বাংলাদেশের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে। তাই আগামীকালের ম্যাচের ওপরেই নির্ভর করছে স্বাগতিক বাংলাদেশের সেমিফাইনাল ভবিষ্যৎ।

সাফ ফুটবল এখন অতীত। ভুটান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই জয় পেলেও নেপালের বিপক্ষে হেরে সেমিফাইনালে খেলতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। ফলে ঘরের মাঠে আশা জাগানিয়া সাফ শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় ব্যর্থতায়। তাই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপেই পাখির চোখ বাংলাদেশের। ফুটবলে একটা সাফল্য যে খুব প্রয়োজন লাল-সবুজ জার্সিধারীদের।

বিশ্ব ফুটবল র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৭৯ নম্বরে অবস্থান করছে লাওস। দলটির বিপক্ষে ভালো করার অভিজ্ঞতাও আছে বাংলাদেশের। ভুটানে বিপর্যয়ের দুই বছর পর লাল-সবুজ আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরে লাওসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই। মার্চের সে ম্যাচে অ্যান্ড্রু ওর্ডের দল ২-০ পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র নিয়ে ফিরেছিল ভিয়েনতিয়েন থেকে। এর পর চলতি মাসে আরব আমিরাতের বিপক্ষে কেবল একটি ম্যাচই খেলেছে তাঁরা। ফ্রেঞ্চ কোচ প্যাট্রিস নেভ্যুর অধীনে ৩-০ গোলে হেরেছে সে ম্যাচ। এ বিচারে সাফ ফুটবল খেলে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচের মোড়কেই আছে বাংলাদেশ। আর তাদের হারিয়ে সেমিফাইনাল খেলা সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ কোচ, ‘গ্রুপপর্বের দুটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। তবে লাওসের বিপক্ষে ম্যাচটির ওপরেই বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। তাঁদের হারাতে পারলেই প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে সেমিফাইনাল।’

সাফ ফুটবলের দল থেকে বঙ্গবন্ধুর গোল্ডকাপের দলে পরিবর্তন আনা হয়েছে বেশ। আক্রমণভাগে প্রাধান্য দেওয়ায় যোগ হয়েছেন মতিন মিয়া, নাবিব নেওয়াজ জীবন, জাভেদ খান, তৌহিদুল আলম সবুজ, মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও জাফর ইকবাল। মাঝমাঠে এসেছেন তরুণ রবিউল হাসান। অনেক দিন পর রক্ষণভাগে ফিরেছেন ইয়াসিন খান। পরিবর্তনগুলো যদি দলকে জাগাতে পারে তবেই বঙ্গবন্ধু কাপে অন্তত সেমিতে খেলতে পারবে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ তে ফাইনাল খেলা বাংলাদেশ ২০১৬তে বিদায় নিয়েছিল সেমি থেকে।

Rate this post