বাংলাদেশের বাইরেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এক্সনহোস্ট….

গ্রাহকবান্ধব সেবা দেওয়ার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বাইরেও তাদের প্রতিষ্ঠান বেশ পরিচিত পেতে শুরু করল।
বর্তমানে বহু প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে। ওয়েবসাইট তৈরির জন্য প্রয়োজন ডোমেইন আর হোস্টিং। তবে এখন যেমন খুব সহজেই ডোমেইন কিংবা হোস্টিং কিনে নেওয়া যায়, ৮ থেকে ১০ বছর আগেও বিষয়টি এত সহজ ছিল না। ডোমেইন হোস্টিং সেবাদাতা দেশীয় প্রতিষ্ঠান তেমন একটা না থাকায় বিদেশি কোম্পানিগুলোর দ্বারস্থ হতে হতো। ভ্রমণবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে গিয়ে এমনই এক পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল মাছুমুল হক নামের এক তরুণকে। নিজের কোনো ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড না থাকায় বিদেশে থাকা একজন পরিচিত ব্যক্তির সাহায্য নিতে হলো তাকে।
পরবর্তী সময়ে মাছুম দেখলেন, পরিচিত অনেকেই তাকে ডোমেইন ও হোস্টিং কিনে দেওয়ার অনুরোধ করছেন। একসময় সংখ্যাটা এত বেশি হলো যে, তিনি নিজেই ‘স্কাইহোস্ট বিডি’ নামের ডোমেইন-হোস্টিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান চালু করে ফেলেন।
ছালেহ আহমদ নামের অপর এক তরুণের শুরুর গল্পটাও অনেকটা একই রকম। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও সুযোগ না পেয়ে ভর্তি হলেন সমাজবিজ্ঞানে। কিন্তু হাল ছাড়লেন না। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেঁটে শিখতে থাকলেন ওয়েবসাইট তৈরির নানা কৌশল। নিজের একটি ওয়েবসাইটও দাঁড় করালেন তিনি, যা দেখে অনেকেই তাকে অনুরোধ করতেন ওয়েবসাইট তৈরি করে দিতে।
২০০৯ সালের শেষের দিকে দেশের বাইরে থেকে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে দেওয়ার কাজ পান ছালেহ। এরপর চালু করে ফেলেন নিজের ডোমেইন ও হোস্টিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘অবসর ডটকম’। তবে প্রথম দিকে এ বিষয়ে খুব বেশি ধারণা না থাকার কারণে তাকে ধাক্কাও খেতে হয়েছিল। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে আবার শুরু করেন ছালেহ।
অনলাইনে পরিচয়ের সুবাদে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে মাছুমুল হক ও ছালেহ আহমেদের মাঝে। তখন তারা চিন্তা করলেন, আলাদা আলাদা ব্যবসা করার চেয়ে দুজন যদি একসাথে কাজ করেন, তাহলে তাদের স্বপ্ন আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এমন ভাবনা থেকেই ২০১২ সালে দুই প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে তারা চালু করেন ‘হোস্ট পেয়ার’।
দুই বন্ধু জানান, গ্রাহকবান্ধব সেবা দেওয়ার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বাইরেও তাদের প্রতিষ্ঠান বেশ পরিচিত পেতে শুরু করল। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
২০১৭ সালের শুরুর দিকে ট্রেডমার্ক জটিলতার কারণে হোস্টপেয়ারের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘এক্সনহোস্ট’ exonhost.com। বর্তমানে এ নামেই সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
সাধারণত দুজন মিলে কোনো ব্যবসা করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই পারস্পরিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এ বিষয়ে ছালেহ আহমেদ বলেন, ‘আমরা যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দুজন মিলেই আলোচনা করে নেই। তা ছাড়া কাজ ভাগ করে নেওয়ার কারণে কোনো সমস্যা হয় না।’
বর্তমানে ক্লাউড লিনাক্স, সিপ্যানেল, লাইটস্পিড, ক্লাউডফ্লেয়ার, সফটাকিউলাসসহ বিশ্বের নামী বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব রয়েছে এক্সনহোস্টের। এক্সনহোস্টের দেশ-বিদেশ মিলিয়ে গ্রাহক আছে ৫ হাজারের বেশি।
তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না এই দুই উদ্যোক্তা। এ বিষয়ে মাছুমুল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বড় করার। দেশের বাইরেও যেন এক নামে সবাই চেনে, এমন একটা অবস্থায় পৌঁছাতে চাই।’
‘এ জন্য আমরা সবসময় মাথায় রাখি, একজন গ্রাহক কী চান। তার চাহিদা অনুসারে সেরা সেবা দেওয়ার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। মানসম্মত গ্রাহকসেবার কারণে এরই মধ্যে দেশের প্রযুক্তি খাতে আমরা একটা আলাদা জায়গা করে নিতে পেরেছি।’
নবীন উদ্যোক্তাদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে মাছুমুল বলেন, ‘যেকোনো ব্যবসাতেই ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। এ ছাড়া সফল হওয়ার জন্য লাগবে প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি। এর সাথে নিষ্ঠা আর একাগ্রতা থাকলে যেকোনো ব্যবসাতেই সফল হওয়া সম্ভব।’

Rate this post