ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প-সুনামি: লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা..

ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মধ্যাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও এরপর ভয়াবহ সুনামির আঘাতে শেষ খবর পর্যন্ত ৩৮৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

এর আগে পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছিল, ভূমিকম্প ও সুনামি মিলে কমপক্ষে ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংবাদ সম্মেলনে দেয়া তথ্যে মৃতের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে ৩৮৪তে গিয়ে ঠেকে।

তবে এখানেই শেষ নয়। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এছাড়াও এখন পর্যন্ত ২৯ জন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে ৫৪০ জন।

ইন্দোনেশিয়া-ভূমিকম্প-সুনামিতে মৃত্যু
হাসপাতাল ভেঙে পড়ায় খোলা আকাশের নিচে চলছে চিকিৎসা

জাকার্তা পোস্ট জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল থেকে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের কেন্দ্রে অবস্থিত ডংগালা এলাকায় পর পর বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিটে আঘাত করা ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৫ মাত্রার।

ভূমিকম্পের পরপরই ওই এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করে ইন্দোনেশিয়ার ভূ-তাত্ত্বিক সংস্থা। কিন্তু এক ঘণ্টার মধ্যেই সেই সতর্কতা তুলে নেয়া হয়। ওই সময় আঘাত করে তীব্র জলোচ্ছ্বাস।ইন্দোনেশিয়া-ভূমিকম্প-সুনামিতে মৃত্যু

এমন সিদ্ধান্তের জন্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে সংস্থাটি। তবে তাদের দাবি, তাদের সতর্কতা জারি থাকা অবস্থায়ই সুনামি আঘাত করেছিল।

এই সুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা বিভিন্ন জায়গায় ০.৫ মিটার থেকে ৩ মিটার (১০ ফুট) পর্যন্ত ছিল। মূলত ডংগালার উপকূলীয় এলাকা এবং পালু শহর আক্রান্ত হয় সুনামিতে।

ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল ডিজাস্টার অ্যান্ড মিটিগেশন এজেন্সির (বিএনপিবি) মুখপাত্র সুতপো পারউয়ো নুগ্রহো শনিবার সংবাদ সম্মেলনে হতাহতের সংখ্যাটি নিশ্চিত করে জানান, ডংগালা এবং পালুর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিশেষ করে ডংগালার ধারেকাছে এখন পর্যন্ত উদ্ধারকারী বাহিনী পৌঁছাতে পারেনি। তবে পালুতে চেষ্টা চলছে।ইন্দোনেশিয়া-ভূমিকম্প-সুনামিতে মৃত্যু

পুরো এলাকায় সাতটি সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বিধ্বস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে টেলিফোন সংযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সুতপো জানান, শুক্রবার রাতে পালুতে একটি বিচ ফেস্টিভাল হওয়ার কথা ছিল। এ কারণে ভূমিকম্পের সময় সেখানে অসংখ্য মানুষ ছিল। ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারির পরও সেখানে অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে সরে না যাওয়ায় সুনামির শিকার হয়। আর এ কারণেই পালুর তালিজ সমুদ্র সৈকতে অনেকগুলো মরদেহ পাওয়া গেছে।ইন্দোনেশিয়া-ভূমিকম্প-সুনামিতে মৃত্যু

ভূমিকম্পের বেশ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। সেখানে দেখা যায়, লোকজন আতঙ্কে ছুটোছুটি করছে, এরই মাঝে ভেঙে পড়ছে আশপাশের স্থাপনা। ভূমিকম্পের কিছুক্ষণের মধ্যেই সুনামি ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়েছে আরও বেশি।

এছাড়া সুনামির ভিডিওগুলোতেও দেখা গেছে বিশাল স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে স্থাপনা ও যানবাহন।

এখনো কিছুক্ষণ পর পর ওই এলাকায় আফটারশক অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

I just opened my watsap grup and This Tsunami seen on Palu, Sulawesi. They recorded this in the top floor of the mall. Our friend’s family confirmed this..

গত মাসেও ইন্দোনেশিয়ার লম্বক দ্বীপে ধারাবাহিক ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে কয়েকশ’ মানুষ নিহত হয়। এর মধ্যে গত ৫ আগস্ট শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণ হারায় ৪৬০ জনের বেশি মানুষ। এবারের ভূমিকম্পটি লম্বকের ভূমিকম্পের চেয়েও বেশি ধ্বংসাত্মক বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Rate this post