আসল আয় আড়াই হাজার টাকা, দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৯শ ডলার…।

মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পর সরকারের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ‘বেস্ট আর্নার’ নির্বাচনেও অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।

আর এই অনিয়মের কারিগরও র‌্যাডিসন ডিজিটাল টেকনোলজিস লিমিটেড।

প্রায় একবছর আগে সর্বোচ্চ আয়কারী দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাত থেকে পুরস্কার নেন র‌্যাডিসনের দুই শিক্ষার্থী রায়হান মাহমুদ ও সিরাত রাজ্জাকী। কিন্তু তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই দুই প্রশিক্ষণার্থীর প্রকৃত আয় গোপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আর এতে সায় দিয়েছেন উপ-প্রকল্প পরিচালক নবীর উদ্দীন।

২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাত থেকে পুরস্কার নেন এলইডিপি প্রকল্পের বেস্ট আর্নার ৮ প্রশিক্ষণার্থী।

এই প্রশিক্ষণের আওতায় দেশসেরা ফ্রিল্যান্সার ঘোষণা করা হয় চট্টগ্রামের রায়হান মাহমুদকে। তার আয় দেখানো হয় ১০ হাজার ৯শ’ মার্কিন ডলার। কাজ শিখেছেন ওয়েব ডিজাইনে। আর গ্রাফিকস ডিজাইনে দুই হাজার ডলার আয় নিয়ে সেরা নির্বাচিত হন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিরাত রাজ্জাকী।

তবে গোল বেঁধেছে এখানেও। প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি তদারকিতে ব্যবহৃত সফটওয়্যারে দেখা যায়, শর্ত ভঙ্গ করে সিরাত রাজ্জাকীকে গ্রাফিকস ডিজাইনে ‘৪৯১’ ও ‘৪৯৯’ দুই ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে দেখানো হয়েছে। দুই হাজার ডলার নয়; তার আয় যথাক্রমে ২১০০ ও ১৪০০ টাকা মাত্র। চট্টগ্রামের রায়হান মাহমুদের আয়ও ১০ হাজার ৯শ’ ডলার নয়; তার আয় মাত্র আড়াই হাজার টাকা। আর অনলাইন মার্কেট প্লেসে রায়হানের রিভিউতে দেখা যায়, ২০১৪ সাল থেকেই অনলাইন মার্কেট প্লেসে কাজ করছেন তিনি।

অগ্রাধিকার একটি প্রকল্পে এতো বড় দুর্নীতির কলকাঠি নেড়েছে র‌্যাডিসন ডিজিটাল টেকনোলজিস লিমিটেড। আর এতে সায় দিয়েছেন স্বয়ং উপ-প্রকল্প পরিচালক নবীর উদ্দীন। ভুল তথ্যে বেস্ট আর্নার নিবাচনের বিষয়টি নাকি তিনি জানতেনই না।

প্রকল্প উপ-পরিচালকের দাবি যে ভিত্তিহীন, যার প্রমাণ র‌্যাডিসন টেকনোলজিস লিমিটেডের কর্ণধার দেলোয়ার হোসেন ফারুকের সাথে তার ফোনকলের এই রেকর্ড।

তবে এসব অনিয়মের দায় অস্বীকার করেছেন দেলোয়ার হোসেন ফারুক।

তিনি বলেন, আমার যদি কোন ফল্ট থাকে তাহলে উনি ব্যবস্থা নিবেন, কোন প্রমাণ আছে?

নবীর উদ্দিন বলেন, কোন কিছুই শতগভাগ নির্ভুল না, কিছু সমস্যা থাকতেই পারে।

এতসব অনিয়মের মধ্যেই এই প্রকল্পের দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ১৮০ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২০ কোটি টাকায়।

Rate this post